আজওয়া খেজুরের অজানা ইতিহাস ও এর উপকারিতা

পবিত্র কোরআনে যেসব ফলের কথা উল্লেখ রয়েছে তার মধ্যে খেজুর অন্যতম। কোন কোন হাদিস শরীফে খেজুরকে বলা হয়েছে জান্নাতি ও বরকতময় ফল। নানান জাতের খেজুরের মধ্যে আবার আজওয়া খেজুরের কদর সবচাইতে বেশি। নবীজি (সা) এর প্রিয় খেজুর আজওয়া। এই খেজুরের চারা নবীজি(সাঃ) নিজ হাতে রোপন করেছিলেন। নবীজি (সাঃ)এর আজওয়া খেজুর গাছের চারা রোপনের পেছনেও রয়েছে এক বিস্ময়কর ইতিহাস! ইহুদীর হাত থেকে এক মুসলিম বান্দাকে মুক্তি করতে আজওয়ার চারা রোপন করেছিলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)।

আজওয়া খেজুরের ইতিহাস

একদিন সালমান ফারসি (রাঃ) নামক এক সাহাবি মহানবীর কাছে আসলেন পরামর্শ ও সাহায্য চাইতে। সালমান ফারসি (রা) সাহাবী হবার আগে ছিলেন এক ইহুদির কৃতদাস। সেই ইহুদি সালমান ফারসি (রাঃ )কে দিনরাত এতটাই খাটাতেন যে, তিনি মুসলিম সমাজের সাথে কোনও যোগাযোগই করতে পারতেন না। তাই সালমান (রাঃ) ইহুদির কাছে তার মুক্তির দাবি জানায়। কিন্তু ইহুদি মালিক তার মুক্তি দেয়নি। বার বার মুক্তি চাওয়ার পর, সালমান (রাঃ) কে মুক্তির জন্য দুটি শর্ত দেয়া হয়। শর্ত পূরণ করতে পারলেই কেবল তার মুক্তি হবে। শর্ত দুটি ছিল- খুবই অল্প সময়ের মধ্যে ৪০ আউন্স স্বর্ণ দিতে হবে এবং ৩০০ খেজুর গাছ লাগিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফল পাকিয়ে দিতে হবে।

ইহুদী ভেবেছিলেন, সালমান (রাঃ) ৪০ আউন্স স্বর্ণ কোনভাবে জোগার করতে পারলেও, অল্প সময়ের মধ্যে ৩০০ খেজুর গাছ লাগিয়ে বড় করে সেগুলো থেকে ফল পাকাতে পারবে না। কারণ খেজুর গাছ লাগানোর পর তা বড় হয়ে ফল দিতে দিতেই অনেক সময় চলে যাবে। এতে করে  মুক্তিও আটকে যাবে।

এমন অবস্থায় ইহুদির দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে কী করা যায় সেই পরামর্শের ও সাহায্যের জন্য ক্রীতদাস সালমান ফারসি (সাঃ) এসেছিলেন নবীজির কাছে।

নিজ হাতে খেজুর চারা রোপন করলেন মহানবী (সাঃ)

মহানবী (সাঃ) প্রথমে ৪০ আউন্স স্বর্ণের ব্যবস্থা করে দিলেন এবং সালমান (রাঃ) কে বললেন তার ইহুদী মালিকের সাথে মুক্তির জন্য চুক্তি সম্পন্ন করতে। আর বললেন, মহানবী (সাঃ) নিজ হাতে খেজুরের চারা রোপন করবেন। খেজুরের বীজ বপনের জন্য তিনি সালমান ফারসি (রাঃ) কে বললেন বাগানে গর্ত খুঁড়তে। গর্ত খোঁড়ার কাজে সালমান (রাঃ) কে সাহায্য করলেন হজরত আলী (রাঃ)। সালমান (রাঃ)কে তার ইহুদী মালিক যে খেজুরের বীজগুলো দিয়েছিলেন সেগুলো ছিলো আগুনে পোড়া ও কালো হয়ে যাওয়া, যাতে এগুলো থেকে চারা না গজায়। কিন্তু মহানবী (সাঃ) সেগুলোকেই গর্তে বপন করে দিলেন।

সালমান ফারসির সেই খেজুর বগান। Source: Flicker

বীজ বপনের পর  মহানবী (সাঃ) সালমান ফারসি (রাঃ)কে বাগানে পানি দিতে বললেন। তিনি নির্দেশ দিলেন, একধারে পানি দিতে দিতে বাগানের শেষ মাথায় যেতে। এবং শেষ পর্যন্ত পানি দেয়া না হলে যেন সে পেছনে ফিরে না তাকায়। তাই পেছন দিকে না তাকিয়ে সালমান (রাঃ) সব গর্তে পানি দিয়ে বাগানের শেষ প্রান্তে চলে গেলেন। পানি দেয়া শেষ হবার পর সালমান ফারসি (রাঃ) পেছন দিকে তাকিয়ে দেখলেন পোড়া বীজ থেকে খেজুর চারা জন্মেছে। শুধু তাই নয়! চারা গাছে খেজুরও ধরে পেকে কালো বর্ণ ধারন করেছে। এই কালো বর্ণের খেজুরের নামই আজওয়া খেজুর।

 আজওয়া খেজুরের উপকারিতা

১. মেডিক্যাল সায়েন্সের মতে আজওয়া খেজুরে রয়েছে আমিষ, শর্করা, খাদ্য আঁশ এবং স্বাস্থ্যসম্মত ফ্যাট।

২। ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে তে ভরপুর এই আজওয়া খেজুর।

৩. এছাড়াও চোখের জন্য উপকারী ক্যারোটিন আছে।

৪. আজওয়াতে আছে ফলেট, নিয়াসিন, থিয়ামিন ও রিবোফ্লেভিন এর মতো স্বাস্থ্যকর উপাদান।

৫. হাদিস মতে, যে ব্যাক্তি প্রতিদিন সকালে কয়েকটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন তাকে কোনো প্রকার বিষ, জাদু-টোনা, অশুভ শক্তি ক্ষতি করতে পারবে না।

৬. হৃদরোগের ঝুকি কমায় আজওয়া খেজুর, লিভার ও পাকস্থলির শক্তি বৃদ্ধি করে, হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।

৭. ফুসফুসের সুরক্ষায় কাজ করে ও মুখগহব্বরের ক্যান্সারজনিত রোগ নিরাময় করে।

৮. আজওয়াতে ডায়েটরি ফাইবার আছে যা কোলেস্টোরল থেকে মুক্তি দেয়।

৯. আজওয়া খেজুরে রয়েছে ৭৭.৫%কার্বোহাইড্রেট, যা অন্যান্য খাদ্যের বিকল্প হিসেবে কাজ করে।

১০. এই খেজুরে আছে ক্যালসিয়াম ও আয়রন যা হাড়,দাঁত,নখ, ত্বক, ও চুল ভাল রাখে।

সদাই এর খেজুর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে কল করুন: 09614-161271 নাম্বারে

অথবা ইঅনবক করুন আমাদের ফেসবুক পেইজে। 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply